রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4
সর্বশেষ সংবাদ :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4

মানব স্বাস্থ্যে শুকরের মাংসের প্রভাব

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৩৮ Time View
৮০

মানব স্বাস্থ্যে শুকরের মাংসের প্রভাব
মাহবুবুল আলম ফারুকী

পুষ্টি উৎপাদনে যা মানুষের জন্য মাংস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু পশু আছে যাদের মাংস মানুষের জন্য মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে এই “স্বাস্থ্য কলিকা” কিস্তিতে আমরা জানতে পারি “শুকরের মাংস” যে কী ভয়াবহ রোগের উৎস হতে পারে। শুকরের মাংস ভক্ষণে অন্ততপক্ষে ৭৫টি ধরণের ভাইরাস ও জীবাণুজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি আমেরিকার জনগণের নিকট জনপ্রিয় খাদ্য। যদিও ইউরোপের অনেক দেশেই শুকরের মাংস ভক্ষণ, সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জানা গেছে, Trichiniasis নামক পরজীবিজনিত একধরনের সংক্রামক রোগের সংক্রমণ সাধারনভাবেই শুকরের মাধ্যমে হয়। এবং Trichinella spiralis নামক পরজীবিটি মানুষের পাকস্থলীতে বাসা বাঁধে। এরপর পেশীতে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মারাত্মক পেশীব্যথা দেখা দেয়। এই রোগটি চিহ্নিত করা খুবই কঠিন এবং এর প্রতিকারও অত্যন্ত কঠিন। কারণ এটি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণভাবে শুকরের মাংসে উপস্থিত এই জীবাণুগুলো ১৫০° ফারেনহাইট তাপে ধ্বংস করা যায় না। অন্যান্য ছত্রাকজাত প্রায় ১০ মিলিয়নের লোক (Trichinella) এর দ্বারা আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসাও তেমন ফলপ্রসূ হয়না। পঁচা বা গাঁজানো মাংসে অনায়াসে জীবাণুরা রোগজীবাণুকে কার্যকরিভাবে সংক্রমণ করতে সক্ষম। কিন্তু শুকরের জীবাণুগুলো “ফাইলোফিলিক” ধরনের আকার ধারণ করে।

এছাড়াও এ রোগের নিদিষ্ট উপসর্গ পাওয়া যায় না। কখনও Trichinae জীবাণুর প্রবেশ নিঃশব্দে রক্তনালী পথে হৃদয় পর্যন্ত গিয়ে বসতে পারে। এ রোগের ফলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন অংশে Myocarditis রোগে আক্রান্ত করে ফেলে এবং ফলে তা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শুকরের মাংসে আরও একধরনের পরজীবী দেখা যায়। এদের মধ্যে অন্যতম হল Taenia solium ও গ্যাসট্রিকের সব রকম জীবাণু ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্ক, হাঁড়-মজ্জা, হাড়ের সন্ধিস্থলে পরজীবি বা ফিতাকৃমির বাসা বাঁধার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে Taenia solium এর জীবাণু বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশে চিহ্নিত হয়েছে। এইসব পরজীবির বাহক স্বরূপ শুকরকেই দায়ী করা হয়। Trichinella গবেষণায় আরও স্পষ্টভাবে জানা গেছে যে, এই জীবাণু ১ম শ্রেণির পরজীবির অন্তর্ভুক্ত এবং তা মানুষের রক্তের বিভিন্ন অংশে, এককোষী ও বহুকোষী জীবাণু ইত্যাদির রূপে বৃদ্ধি পায়। এই রোগটি ইউরোপীয় দেশসহ ইতালিতে রীতিমতো রিসার্চ হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, Trichinae spiralis দ্বারা সংক্রমণের ফলে শিশুমৃত্যু হার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ রোগটি শূকরের মাংসে উপস্থিত অবস্থায় দেহে প্রবেশ করলে তা স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।

তাই সুস্থ দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য আমরা যেন শূকরের মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকি। আমাদের উচিত ধর্মীয় ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে এমন মাংস বর্জন করা। তা না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকেই এর জন্য দায়ী করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

মানব স্বাস্থ্যে শুকরের মাংসের প্রভাব

Update Time : ১০:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
৮০

মানব স্বাস্থ্যে শুকরের মাংসের প্রভাব
মাহবুবুল আলম ফারুকী

পুষ্টি উৎপাদনে যা মানুষের জন্য মাংস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু পশু আছে যাদের মাংস মানুষের জন্য মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে এই “স্বাস্থ্য কলিকা” কিস্তিতে আমরা জানতে পারি “শুকরের মাংস” যে কী ভয়াবহ রোগের উৎস হতে পারে। শুকরের মাংস ভক্ষণে অন্ততপক্ষে ৭৫টি ধরণের ভাইরাস ও জীবাণুজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি আমেরিকার জনগণের নিকট জনপ্রিয় খাদ্য। যদিও ইউরোপের অনেক দেশেই শুকরের মাংস ভক্ষণ, সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জানা গেছে, Trichiniasis নামক পরজীবিজনিত একধরনের সংক্রামক রোগের সংক্রমণ সাধারনভাবেই শুকরের মাধ্যমে হয়। এবং Trichinella spiralis নামক পরজীবিটি মানুষের পাকস্থলীতে বাসা বাঁধে। এরপর পেশীতে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মারাত্মক পেশীব্যথা দেখা দেয়। এই রোগটি চিহ্নিত করা খুবই কঠিন এবং এর প্রতিকারও অত্যন্ত কঠিন। কারণ এটি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণভাবে শুকরের মাংসে উপস্থিত এই জীবাণুগুলো ১৫০° ফারেনহাইট তাপে ধ্বংস করা যায় না। অন্যান্য ছত্রাকজাত প্রায় ১০ মিলিয়নের লোক (Trichinella) এর দ্বারা আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসাও তেমন ফলপ্রসূ হয়না। পঁচা বা গাঁজানো মাংসে অনায়াসে জীবাণুরা রোগজীবাণুকে কার্যকরিভাবে সংক্রমণ করতে সক্ষম। কিন্তু শুকরের জীবাণুগুলো “ফাইলোফিলিক” ধরনের আকার ধারণ করে।

এছাড়াও এ রোগের নিদিষ্ট উপসর্গ পাওয়া যায় না। কখনও Trichinae জীবাণুর প্রবেশ নিঃশব্দে রক্তনালী পথে হৃদয় পর্যন্ত গিয়ে বসতে পারে। এ রোগের ফলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন অংশে Myocarditis রোগে আক্রান্ত করে ফেলে এবং ফলে তা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শুকরের মাংসে আরও একধরনের পরজীবী দেখা যায়। এদের মধ্যে অন্যতম হল Taenia solium ও গ্যাসট্রিকের সব রকম জীবাণু ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্ক, হাঁড়-মজ্জা, হাড়ের সন্ধিস্থলে পরজীবি বা ফিতাকৃমির বাসা বাঁধার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে Taenia solium এর জীবাণু বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশে চিহ্নিত হয়েছে। এইসব পরজীবির বাহক স্বরূপ শুকরকেই দায়ী করা হয়। Trichinella গবেষণায় আরও স্পষ্টভাবে জানা গেছে যে, এই জীবাণু ১ম শ্রেণির পরজীবির অন্তর্ভুক্ত এবং তা মানুষের রক্তের বিভিন্ন অংশে, এককোষী ও বহুকোষী জীবাণু ইত্যাদির রূপে বৃদ্ধি পায়। এই রোগটি ইউরোপীয় দেশসহ ইতালিতে রীতিমতো রিসার্চ হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, Trichinae spiralis দ্বারা সংক্রমণের ফলে শিশুমৃত্যু হার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ রোগটি শূকরের মাংসে উপস্থিত অবস্থায় দেহে প্রবেশ করলে তা স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।

তাই সুস্থ দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য আমরা যেন শূকরের মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকি। আমাদের উচিত ধর্মীয় ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে এমন মাংস বর্জন করা। তা না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকেই এর জন্য দায়ী করবে।