রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যশোরের মণিরামপুরে দুই ঘন্টার কর্মবিরতিতে সেবা বন্ধে রোগীদের ক্ষোভ! ‎ নির্বাচনী প্রচারনা স্থগিতঃ ‎মণিরামপুরে বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত,সভাপতি শামসুদ্দোহা- সম্পাদক সাদ্দাম চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি ‘মাদককারবারী’ আহত: পরিবার বলছে নিহত, চলছে শোকের মাতম ‎মণিরামপুরে শিক্ষানীতি বহির্ভূত কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত প্রধান শিক্ষক মান্নান শোকজ!করছেন দৌড়ঝাঁপ রাজাপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে দিনমজুর “ফজলুর” বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে নিঃস্ব পরিবার!! চুয়াডাঙ্গা যৌথবাহিনীর অভিযানে তিনজন গ্রেফতার বোমা, দেশীয় অস্ত্র ও হরিণের চামড়া উদ্ধার। মণিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গায় আট দলীয় ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত গাজীপুরের সফিপুরে বাউল আবুল সরকারের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
সর্বশেষ সংবাদ :
যশোরের মণিরামপুরে দুই ঘন্টার কর্মবিরতিতে সেবা বন্ধে রোগীদের ক্ষোভ! ‎ নির্বাচনী প্রচারনা স্থগিতঃ ‎মণিরামপুরে বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত,সভাপতি শামসুদ্দোহা- সম্পাদক সাদ্দাম চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি ‘মাদককারবারী’ আহত: পরিবার বলছে নিহত, চলছে শোকের মাতম ‎মণিরামপুরে শিক্ষানীতি বহির্ভূত কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত প্রধান শিক্ষক মান্নান শোকজ!করছেন দৌড়ঝাঁপ রাজাপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে দিনমজুর “ফজলুর” বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে নিঃস্ব পরিবার!! চুয়াডাঙ্গা যৌথবাহিনীর অভিযানে তিনজন গ্রেফতার বোমা, দেশীয় অস্ত্র ও হরিণের চামড়া উদ্ধার। মণিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গায় আট দলীয় ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত গাজীপুরের সফিপুরে বাউল আবুল সরকারের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

নদীগর্ভে বিলীন সোনাপুর: সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা শরবেশ দেওয়ানী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫৩ Time View

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সোনাপুর গ্রাম যেন আজ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক জনপদের নাম। লাগাতার নদীভাঙ্গনে এখানকার অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। তাঁদেরই একজন শরবেশ দেওয়ানী—এলাকার সবচেয়ে বড় গৃহস্থ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার একের পর এক ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে নিজ বসতভিটাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে পাগলপ্রায় শরবেশ দেওয়ানী খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোথায় যাবেন, কিভাবে বাঁচবেন—সে দিশাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

বাঁচার তাগিদে নদীর কিনারে একটি অস্থায়ী ছাপড়া তৈরি করে রাত যাপন করছিলেন। কিন্তু গতরাতের ঝড়ো বাতাসে সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও নদীতে ভেসে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরবেশ দেওয়ানী।

তার ভাতিজা জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “চোখের সামনে সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, খাবার নেই, বাঁচার কোনো উপায় নেই।”

সোনাপুর গ্রামবাসীদের ভাষ্য, নদীভাঙ্গনের প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছেনি। নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা বলছেন,
“আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই দ্রুত নদীভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙ্গন রোধে বেশ কিছু প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই রৌমারীর বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

যশোরের মণিরামপুরে দুই ঘন্টার কর্মবিরতিতে সেবা বন্ধে রোগীদের ক্ষোভ! ‎

নদীগর্ভে বিলীন সোনাপুর: সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা শরবেশ দেওয়ানী

Update Time : ০২:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সোনাপুর গ্রাম যেন আজ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক জনপদের নাম। লাগাতার নদীভাঙ্গনে এখানকার অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। তাঁদেরই একজন শরবেশ দেওয়ানী—এলাকার সবচেয়ে বড় গৃহস্থ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার একের পর এক ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে নিজ বসতভিটাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে পাগলপ্রায় শরবেশ দেওয়ানী খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোথায় যাবেন, কিভাবে বাঁচবেন—সে দিশাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

বাঁচার তাগিদে নদীর কিনারে একটি অস্থায়ী ছাপড়া তৈরি করে রাত যাপন করছিলেন। কিন্তু গতরাতের ঝড়ো বাতাসে সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও নদীতে ভেসে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরবেশ দেওয়ানী।

তার ভাতিজা জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “চোখের সামনে সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, খাবার নেই, বাঁচার কোনো উপায় নেই।”

সোনাপুর গ্রামবাসীদের ভাষ্য, নদীভাঙ্গনের প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছেনি। নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা বলছেন,
“আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই দ্রুত নদীভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙ্গন রোধে বেশ কিছু প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই রৌমারীর বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।