রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4
সর্বশেষ সংবাদ :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4

নদীগর্ভে বিলীন সোনাপুর: সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা শরবেশ দেওয়ানী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • ১০৬ Time View

সংগৃহীত

৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সোনাপুর গ্রাম যেন আজ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক জনপদের নাম। লাগাতার নদীভাঙ্গনে এখানকার অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। তাঁদেরই একজন শরবেশ দেওয়ানী—এলাকার সবচেয়ে বড় গৃহস্থ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার একের পর এক ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে নিজ বসতভিটাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে পাগলপ্রায় শরবেশ দেওয়ানী খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোথায় যাবেন, কিভাবে বাঁচবেন—সে দিশাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

বাঁচার তাগিদে নদীর কিনারে একটি অস্থায়ী ছাপড়া তৈরি করে রাত যাপন করছিলেন। কিন্তু গতরাতের ঝড়ো বাতাসে সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও নদীতে ভেসে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরবেশ দেওয়ানী।

তার ভাতিজা জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “চোখের সামনে সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, খাবার নেই, বাঁচার কোনো উপায় নেই।”

সোনাপুর গ্রামবাসীদের ভাষ্য, নদীভাঙ্গনের প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছেনি। নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা বলছেন,
“আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই দ্রুত নদীভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙ্গন রোধে বেশ কিছু প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই রৌমারীর বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নদীগর্ভে বিলীন সোনাপুর: সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা শরবেশ দেওয়ানী

Update Time : ০২:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সোনাপুর গ্রাম যেন আজ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক জনপদের নাম। লাগাতার নদীভাঙ্গনে এখানকার অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। তাঁদেরই একজন শরবেশ দেওয়ানী—এলাকার সবচেয়ে বড় গৃহস্থ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার একের পর এক ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যায়। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে নিজ বসতভিটাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে পাগলপ্রায় শরবেশ দেওয়ানী খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোথায় যাবেন, কিভাবে বাঁচবেন—সে দিশাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

বাঁচার তাগিদে নদীর কিনারে একটি অস্থায়ী ছাপড়া তৈরি করে রাত যাপন করছিলেন। কিন্তু গতরাতের ঝড়ো বাতাসে সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও নদীতে ভেসে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরবেশ দেওয়ানী।

তার ভাতিজা জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “চোখের সামনে সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, খাবার নেই, বাঁচার কোনো উপায় নেই।”

সোনাপুর গ্রামবাসীদের ভাষ্য, নদীভাঙ্গনের প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছেনি। নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা বলছেন,
“আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই দ্রুত নদীভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙ্গন রোধে বেশ কিছু প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই রৌমারীর বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।