রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4
সর্বশেষ সংবাদ :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন অব্যাহত, সোনাপুর-খেওয়ারচর বিলীন হওয়ার পথে: অবিলম্বে নদী শাসনের দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
  • ১২৬ Time View

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনের চিত্র

৭৯

নতুন কলম ডেস্কঃ
কত নেতা এলো, কত বাজেট বরাদ্দ হলো, কত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো—কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না কুড়িগ্রামের সোনাপুর, খেওয়ারচর, সাহেবের আলগা, খেদাইমারী, ঘুঘুমারী ও গেন্দার আলগাবাসীর। ব্রহ্মপুত্র নদের আগ্রাসী ভাঙনে এসব এলাকার মানুষ বারবার সর্বস্ব হারিয়ে আবার শূন্য থেকে শুরু করছে জীবন।

নদীর ভাঙন যেন দিন দিন আরও হিংস্র হয়ে উঠছে। তার এই থাবায় কেউ হারাচ্ছে বছরের পর বছর জমানো সহায়-সম্পদ, কেউবা স্বপ্নের বসতভিটা। নদী গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল-মসজিদসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮৮৭ সালের বন্যা থেকেই এই ভাঙনের সূচনা। এরপর ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প পাল্টে দেয় ব্রহ্মপুত্রের স্বভাবচরিত্র। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা তো রেকর্ডই গড়েছে। তখন শুধু পানি নয়, ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে এসেছে নদী। বহু মানুষ হয়েছে গৃহহীন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই চর এলাকার কোনো না কোনো গ্রাম হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদী আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে বসে অশীতিপর এক বৃদ্ধ অসহায়ের মতো বলেন, “গতকালও আমার সব ছিল, আজ কিছুই নেই। এর আগে ১২ বার ঘর সরিয়েছি, এবার দিয়ে ১৩ বার। আর যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই নদী শাসন। কত কর্তা বাবু এলো, গেল, কিন্তু আমাদের দুঃখ কেউ দেখে না।”

চর শৌলমারী ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রসহ আশপাশের বহু স্থাপনা এখন হুমকির মুখে। এভাবে চলতে থাকলে এসব জনপদের মানচিত্র থেকেও মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদী শাসন ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয় নয়, পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক দিয়েও বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে পুরো অঞ্চল—এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন অব্যাহত, সোনাপুর-খেওয়ারচর বিলীন হওয়ার পথে: অবিলম্বে নদী শাসনের দাবি

Update Time : ০৭:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
৭৯

নতুন কলম ডেস্কঃ
কত নেতা এলো, কত বাজেট বরাদ্দ হলো, কত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো—কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না কুড়িগ্রামের সোনাপুর, খেওয়ারচর, সাহেবের আলগা, খেদাইমারী, ঘুঘুমারী ও গেন্দার আলগাবাসীর। ব্রহ্মপুত্র নদের আগ্রাসী ভাঙনে এসব এলাকার মানুষ বারবার সর্বস্ব হারিয়ে আবার শূন্য থেকে শুরু করছে জীবন।

নদীর ভাঙন যেন দিন দিন আরও হিংস্র হয়ে উঠছে। তার এই থাবায় কেউ হারাচ্ছে বছরের পর বছর জমানো সহায়-সম্পদ, কেউবা স্বপ্নের বসতভিটা। নদী গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল-মসজিদসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮৮৭ সালের বন্যা থেকেই এই ভাঙনের সূচনা। এরপর ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প পাল্টে দেয় ব্রহ্মপুত্রের স্বভাবচরিত্র। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা তো রেকর্ডই গড়েছে। তখন শুধু পানি নয়, ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে এসেছে নদী। বহু মানুষ হয়েছে গৃহহীন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই চর এলাকার কোনো না কোনো গ্রাম হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদী আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে বসে অশীতিপর এক বৃদ্ধ অসহায়ের মতো বলেন, “গতকালও আমার সব ছিল, আজ কিছুই নেই। এর আগে ১২ বার ঘর সরিয়েছি, এবার দিয়ে ১৩ বার। আর যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই নদী শাসন। কত কর্তা বাবু এলো, গেল, কিন্তু আমাদের দুঃখ কেউ দেখে না।”

চর শৌলমারী ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রসহ আশপাশের বহু স্থাপনা এখন হুমকির মুখে। এভাবে চলতে থাকলে এসব জনপদের মানচিত্র থেকেও মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদী শাসন ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয় নয়, পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক দিয়েও বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে পুরো অঞ্চল—এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।