Rowmari - Kurigram 9:17 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি ‘মাদককারবারী’ আহত: পরিবার বলছে নিহত, চলছে শোকের মাতম

১৪১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে শনিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, বিকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে শহিদুল ইসলাম (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন।

বিএসএফ এবং বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি চিহ্নিত মাদককারবারী, যিনি ভারতে মাদক আনতে গিয়েছিলেন।

তবে শহিদুল ইসলামের পরিবার তাকে নিহত বলে দাবি করেছে এবং তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শহিদুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র এবং সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর তথ্যমতে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে শহিদুল ইসলামসহ ৬-৭ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা।

তারা গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মাটিয়ারী ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ করেন।

বিএসএফের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চ্যালেঞ্জের মুখে শহিদুল ইসলাম তার সঙ্গে থাকা হাসুয়া (এক ধরণের ধারালো অস্ত্র) বের করে বিএসএফ সদস্যদের উপর চড়াও হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
বিএসএফের ছোড়া গুলিতে শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

বিএসএফের মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম পিএসসি সাংবাদিকদের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তিনি ভারতের ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট সুজিত কুমারের বরাত দিয়ে জানান, আহত শহিদুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য ভারতের কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার নস্কর আলীর ছেলে এবং একজন চিহ্নিত মাদককারবারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফ এবং বিজিবির পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলামের আহত হওয়ার খবর জানানো হলেও তার পরিবার ভিন্ন দাবি করছে।

শহিদুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে বলা হচ্ছে, বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাদের এই দাবির কারণে গয়েশপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

এই ঘটনার পর গয়েশপুর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএসএফ ও বিজিবি উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে উভয় দেশের বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই এই ধরনের গুলির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করলো।

আহত বাংলাদেশি নাগরিকের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবার ও কর্তৃপক্ষের দাবির ভিন্নতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি ‘মাদককারবারী’ আহত: পরিবার বলছে নিহত, চলছে শোকের মাতম

Update Time : ১১:২২:০৭ pm, Saturday, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৪১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে শনিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, বিকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে শহিদুল ইসলাম (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন।

বিএসএফ এবং বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি চিহ্নিত মাদককারবারী, যিনি ভারতে মাদক আনতে গিয়েছিলেন।

তবে শহিদুল ইসলামের পরিবার তাকে নিহত বলে দাবি করেছে এবং তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শহিদুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র এবং সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর তথ্যমতে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে শহিদুল ইসলামসহ ৬-৭ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা।

তারা গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মাটিয়ারী ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ করেন।

বিএসএফের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চ্যালেঞ্জের মুখে শহিদুল ইসলাম তার সঙ্গে থাকা হাসুয়া (এক ধরণের ধারালো অস্ত্র) বের করে বিএসএফ সদস্যদের উপর চড়াও হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
বিএসএফের ছোড়া গুলিতে শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

বিএসএফের মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম পিএসসি সাংবাদিকদের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তিনি ভারতের ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট সুজিত কুমারের বরাত দিয়ে জানান, আহত শহিদুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য ভারতের কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার নস্কর আলীর ছেলে এবং একজন চিহ্নিত মাদককারবারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফ এবং বিজিবির পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলামের আহত হওয়ার খবর জানানো হলেও তার পরিবার ভিন্ন দাবি করছে।

শহিদুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে বলা হচ্ছে, বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাদের এই দাবির কারণে গয়েশপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

এই ঘটনার পর গয়েশপুর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএসএফ ও বিজিবি উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে উভয় দেশের বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই এই ধরনের গুলির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করলো।

আহত বাংলাদেশি নাগরিকের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবার ও কর্তৃপক্ষের দাবির ভিন্নতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।