Rowmari - Kurigram 7:40 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

গাজীপুরের দিঘীর পাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ৩টি দোকান ও ৭৫টি রুম পুড়ে ছাই

১৪৫

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘীরপাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি কলোনী সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ একটি টিনশেড রুমে আগুন দেখা দিলে মুহূর্তেই তা পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় তিনটি কলোনীর ৭৫টি রুম ও পাশের ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ মানুষের ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, শাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন টিনশেড কলোনীর একটি রুমে প্রথম আগুন দেখা যায়। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা buckets, পাইপ ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু টিনশেড কাঠামো, টিনের দেয়াল ও ভেতরের দাহ্য সামগ্রী আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন তিনটি কলোনী ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে উপস্থিত লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরি জানান, পৌঁছে অভিযান শুরু করতেই দেখা যায় আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। তবুও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় ৭৫টি রুম ও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। কেউ তাদের রুম থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেনি। আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পরিবার দিনমজুরি, গার্মেন্টস কর্মী, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী হওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগ তাদের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এক পরিবার জানায়, “সব কিছু পুড়ে গেছে— কাপড় থেকে শুরু করে বাচ্চাদের বই-খাতা, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।” আগুন নেভার পরও ধোঁয়ায় ঢেকে ছিল পুরো কলোনী এলাকা। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জরুরি ত্রাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তদন্তের প্রস্তুতিও চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসনসহ জরুরি খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। আগুনে ভস্মীভূত এলাকায় এখনো শোক, আতঙ্ক ও অসহায়তার পরিবেশ বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গাজীপুরের দিঘীর পাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ৩টি দোকান ও ৭৫টি রুম পুড়ে ছাই

Update Time : ০৬:৪০:১২ pm, Monday, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৪৫

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘীরপাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি কলোনী সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ একটি টিনশেড রুমে আগুন দেখা দিলে মুহূর্তেই তা পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় তিনটি কলোনীর ৭৫টি রুম ও পাশের ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ মানুষের ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, শাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন টিনশেড কলোনীর একটি রুমে প্রথম আগুন দেখা যায়। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা buckets, পাইপ ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু টিনশেড কাঠামো, টিনের দেয়াল ও ভেতরের দাহ্য সামগ্রী আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন তিনটি কলোনী ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে উপস্থিত লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরি জানান, পৌঁছে অভিযান শুরু করতেই দেখা যায় আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। তবুও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় ৭৫টি রুম ও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। কেউ তাদের রুম থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেনি। আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পরিবার দিনমজুরি, গার্মেন্টস কর্মী, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী হওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগ তাদের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এক পরিবার জানায়, “সব কিছু পুড়ে গেছে— কাপড় থেকে শুরু করে বাচ্চাদের বই-খাতা, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।” আগুন নেভার পরও ধোঁয়ায় ঢেকে ছিল পুরো কলোনী এলাকা। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জরুরি ত্রাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তদন্তের প্রস্তুতিও চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসনসহ জরুরি খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। আগুনে ভস্মীভূত এলাকায় এখনো শোক, আতঙ্ক ও অসহায়তার পরিবেশ বিরাজ করছে।