Rowmari - Kurigram 5:34 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

মণিরামপুরে চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০:০৭ am, Monday, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 43 Time View
৭৮

আবু রায়হান, মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের যুবক আঃ করিম। একের পর এক ফল চাষে সাফল্য পেয়ে তিনি এখন এলাকায় পরিচিত ‘ফল চাষী মালটা করিম নামে। বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে এক উদাহরণ—একটি ব্র্যান্ড।

প্রান্তিক চাষী করিম ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—“স্বনির্ভর হবো, মানুষের জন্য কিছু করবো।”
জীবনের চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি নয়, তিনি বেছে নেন মাটিকে। শিক্ষা ও স্বপ্ন মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের পথ। মাল্টা চাষে প্রথম পদক্ষেপ— এক বিঘা জমি নিয়ে শুরু।

করিম জানান— ১১ বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন। প্রায় ৪০ শতকে চায়না লেবু ও মাল্টা লাগিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম তিন বছর ভালো ফলন আসে । কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। এক বিঘা জমি বদলে দিল জীবন ১১ বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকা, আর আয় হয়েছে ৪০/ ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

চলতি মৌসুমেও মাল্টা ও চায়না লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। করিমের প্রত্যাশা—এবারও আয় হবে অন্তত কয়েক লাখ টাকা।

তার প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন মালটা” এখন শুধু করিম নয়, এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা।
করিম বলেন, শুরুতে ছিল অনেক কষ্ট, দুই বছর কোনো ফলন পাইনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি। বাগানের মহিলা শ্রমিক বলে “করিম ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১৫-২০ জন নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। প্রবল ইচ্ছে শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়—তার উজ্জ্বল উদাহরণ করিম। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আদর্শ।

“আঃ করিম একজন আদর্শ মিশ্র ফল চাষী। তার দেখে এলাকাব্যাপী বেকার যুবকরা ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে, তিনি কৃষি ও কৃষকদের জন্য সত্যিই আইডল।

মণিরামপুরের মাটিতে মাল্টা ও কামলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। করিম নতুন পদ্ধতি ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামের সাধারণ এক যুবকের এমন সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা।
করিমের গল্প প্রমাণ করে—জমি কম হলেও ইচ্ছে শক্তি, জ্ঞান, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কৃষি হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান। করিম এখন ২৫ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছে।

আবু রায়হান
মণিরামপুর প্রতিনিধি
৮/১২/২০২৫

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মণিরামপুরে চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম

Update Time : ১১:৫০:০৭ am, Monday, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
৭৮

আবু রায়হান, মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের যুবক আঃ করিম। একের পর এক ফল চাষে সাফল্য পেয়ে তিনি এখন এলাকায় পরিচিত ‘ফল চাষী মালটা করিম নামে। বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে এক উদাহরণ—একটি ব্র্যান্ড।

প্রান্তিক চাষী করিম ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—“স্বনির্ভর হবো, মানুষের জন্য কিছু করবো।”
জীবনের চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি নয়, তিনি বেছে নেন মাটিকে। শিক্ষা ও স্বপ্ন মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের পথ। মাল্টা চাষে প্রথম পদক্ষেপ— এক বিঘা জমি নিয়ে শুরু।

করিম জানান— ১১ বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন। প্রায় ৪০ শতকে চায়না লেবু ও মাল্টা লাগিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম তিন বছর ভালো ফলন আসে । কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। এক বিঘা জমি বদলে দিল জীবন ১১ বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকা, আর আয় হয়েছে ৪০/ ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

চলতি মৌসুমেও মাল্টা ও চায়না লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। করিমের প্রত্যাশা—এবারও আয় হবে অন্তত কয়েক লাখ টাকা।

তার প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন মালটা” এখন শুধু করিম নয়, এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা।
করিম বলেন, শুরুতে ছিল অনেক কষ্ট, দুই বছর কোনো ফলন পাইনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি। বাগানের মহিলা শ্রমিক বলে “করিম ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১৫-২০ জন নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। প্রবল ইচ্ছে শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়—তার উজ্জ্বল উদাহরণ করিম। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আদর্শ।

“আঃ করিম একজন আদর্শ মিশ্র ফল চাষী। তার দেখে এলাকাব্যাপী বেকার যুবকরা ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে, তিনি কৃষি ও কৃষকদের জন্য সত্যিই আইডল।

মণিরামপুরের মাটিতে মাল্টা ও কামলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। করিম নতুন পদ্ধতি ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামের সাধারণ এক যুবকের এমন সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা।
করিমের গল্প প্রমাণ করে—জমি কম হলেও ইচ্ছে শক্তি, জ্ঞান, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কৃষি হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান। করিম এখন ২৫ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছে।

আবু রায়হান
মণিরামপুর প্রতিনিধি
৮/১২/২০২৫