রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4
সর্বশেষ সংবাদ :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4

মণিরামপুরে চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ Time View
২৫

আবু রায়হান, মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের যুবক আঃ করিম। একের পর এক ফল চাষে সাফল্য পেয়ে তিনি এখন এলাকায় পরিচিত ‘ফল চাষী মালটা করিম নামে। বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে এক উদাহরণ—একটি ব্র্যান্ড।

প্রান্তিক চাষী করিম ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—“স্বনির্ভর হবো, মানুষের জন্য কিছু করবো।”
জীবনের চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি নয়, তিনি বেছে নেন মাটিকে। শিক্ষা ও স্বপ্ন মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের পথ। মাল্টা চাষে প্রথম পদক্ষেপ— এক বিঘা জমি নিয়ে শুরু।

করিম জানান— ১১ বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন। প্রায় ৪০ শতকে চায়না লেবু ও মাল্টা লাগিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম তিন বছর ভালো ফলন আসে । কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। এক বিঘা জমি বদলে দিল জীবন ১১ বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকা, আর আয় হয়েছে ৪০/ ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

চলতি মৌসুমেও মাল্টা ও চায়না লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। করিমের প্রত্যাশা—এবারও আয় হবে অন্তত কয়েক লাখ টাকা।

তার প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন মালটা” এখন শুধু করিম নয়, এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা।
করিম বলেন, শুরুতে ছিল অনেক কষ্ট, দুই বছর কোনো ফলন পাইনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি। বাগানের মহিলা শ্রমিক বলে “করিম ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১৫-২০ জন নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। প্রবল ইচ্ছে শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়—তার উজ্জ্বল উদাহরণ করিম। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আদর্শ।

“আঃ করিম একজন আদর্শ মিশ্র ফল চাষী। তার দেখে এলাকাব্যাপী বেকার যুবকরা ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে, তিনি কৃষি ও কৃষকদের জন্য সত্যিই আইডল।

মণিরামপুরের মাটিতে মাল্টা ও কামলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। করিম নতুন পদ্ধতি ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামের সাধারণ এক যুবকের এমন সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা।
করিমের গল্প প্রমাণ করে—জমি কম হলেও ইচ্ছে শক্তি, জ্ঞান, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কৃষি হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান। করিম এখন ২৫ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছে।

আবু রায়হান
মণিরামপুর প্রতিনিধি
৮/১২/২০২৫

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

মণিরামপুরে চায়না লেবু ও মাল্টা চাষেও সফল ‘ আঃ করিম

Update Time : ১১:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
২৫

আবু রায়হান, মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের যুবক আঃ করিম। একের পর এক ফল চাষে সাফল্য পেয়ে তিনি এখন এলাকায় পরিচিত ‘ফল চাষী মালটা করিম নামে। বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে এক উদাহরণ—একটি ব্র্যান্ড।

প্রান্তিক চাষী করিম ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—“স্বনির্ভর হবো, মানুষের জন্য কিছু করবো।”
জীবনের চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি নয়, তিনি বেছে নেন মাটিকে। শিক্ষা ও স্বপ্ন মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের পথ। মাল্টা চাষে প্রথম পদক্ষেপ— এক বিঘা জমি নিয়ে শুরু।

করিম জানান— ১১ বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন। প্রায় ৪০ শতকে চায়না লেবু ও মাল্টা লাগিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম তিন বছর ভালো ফলন আসে । কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। এক বিঘা জমি বদলে দিল জীবন ১১ বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০/ ২৫ লাখ টাকা, আর আয় হয়েছে ৪০/ ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

চলতি মৌসুমেও মাল্টা ও চায়না লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। করিমের প্রত্যাশা—এবারও আয় হবে অন্তত কয়েক লাখ টাকা।

তার প্রতিষ্ঠিত “গ্রীন মালটা” এখন শুধু করিম নয়, এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা।
করিম বলেন, শুরুতে ছিল অনেক কষ্ট, দুই বছর কোনো ফলন পাইনি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি। বাগানের মহিলা শ্রমিক বলে “করিম ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১৫-২০ জন নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। প্রবল ইচ্ছে শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়—তার উজ্জ্বল উদাহরণ করিম। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আদর্শ।

“আঃ করিম একজন আদর্শ মিশ্র ফল চাষী। তার দেখে এলাকাব্যাপী বেকার যুবকরা ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে, তিনি কৃষি ও কৃষকদের জন্য সত্যিই আইডল।

মণিরামপুরের মাটিতে মাল্টা ও কামলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। করিম নতুন পদ্ধতি ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামের সাধারণ এক যুবকের এমন সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা।
করিমের গল্প প্রমাণ করে—জমি কম হলেও ইচ্ছে শক্তি, জ্ঞান, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে কৃষি হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান। করিম এখন ২৫ বিঘা জমিতে ফলের চাষ করছে।

আবু রায়হান
মণিরামপুর প্রতিনিধি
৮/১২/২০২৫