চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
০৯/১২/২৫ ইং মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় এক বর্ণাঢ্য মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে সকাল ১০:০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এই আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা।
দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিবিরোধী নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সকলে একযোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
এই মানববন্ধন সাধারণ জনগণের মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক প্রতীকী ভূমিকা পালন করে।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় বক্তারা দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সমাজের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মকে সৎ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আগামী প্রজন্মের শুদ্ধতাই পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত জাতি গঠনে মূল ভিত্তি স্থাপন করতে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন:
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে বর্জন করার জন্য ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা অপরিহার্য।
তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণ: স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার আদর্শ গভীরভাবে গেঁথে দিতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তরে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
উক্ত আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), চুয়াডাঙ্গা; জনাব মোঃ বজলুর রহমান, দুর্নীতি দমন কমিশন, ঝিনাইদহ; অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটি; প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য ও পরামর্শ অনুষ্ঠানটিকে সমৃদ্ধ করে তোলে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বক্তারা সম্মিলিতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কেবল সরকারের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এ জন্য সমাজের প্রতিটি নাগরিকের সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
সার্বিক দিক থেকে এই আয়োজনটি চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী চেতনাকে আরও শাণিত করেছে এবং একটি শুদ্ধ সমাজ গড়ার অঙ্গীকারকে দৃঢ় করেছে।
মোঃ মিনারুল ইসলাম 



















