Rowmari - Kurigram 9:16 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কারাবন্দি

১১৭

চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
১০/১২/২৫ ইং বুধবার

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের অদূরে ভিমরুল্লাহ নামক স্থানে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার।

প্রতিদিন কারাবন্দিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয়-স্বজন ও কারারক্ষীদের প্রবেশ করতে হয় নাক চেপে। কারণ জেলা কারাগারের সামনে প্রধান ফটকের পাশেই রয়েছে পৌরসভার ডাস্টবিন।

এই ডাস্টবিন উপচেপড়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়। যেখান থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। রেস্তোরাঁর পচা ভাত-তরকারি, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই ফেলা হয় এখানে।

এতে মশা-মাছির উপদ্রবসহ দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে কারারক্ষী ও কারাবন্দি-সহ আশপাশের বাসিন্দারা এবং পথচারি। নিজেদের এমন দূর্গন্ধময় পরিবেশ ও ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেল সুপার মোঃ আসাদুর রহমান।

সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনা- চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের ভিমরুল্লাহ গ্ৰামে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনেই সড়ক ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা এনে স্তূপ করে রাখা হয়।

দিন যত যাচ্ছে রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড় ততই বড় হচ্ছে। এ এলাকার বাসিন্দাদের নষ্ট হওয়া শাকসবজি, হোটেলের পচা-বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং বাসাবাড়ির ময়লাসহ সব ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে।

ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে গেটের পাশে বসে থেকে ডিউটি করা কঠিন হয়ে পড়ে কারারক্ষীদের জন্য। পাশাপাশি নাক চেপে পার হচ্ছে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরাও।

আব্দুল্লাহ হক নামে একজন পথচারী বলেন, সামনেই জেলা কারাগার অথচ এখানে ময়লা ফেলে রাখছে। জেলা কারাগার লেখা নির্দেশিকা বোর্ডের পাশেও ময়লার স্তূপ দেখা যায়। কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই।

এখান দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না।“ পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। নিরাপদ ও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা উচিত।

কারাবন্দীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা রিপন আলী বলেন, “এই ময়লার কারণে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই দূষণ আমাদের সকলের জন্য ক্ষতিকর। সবারই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।”

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার এই ময়লার মাঝে পরিষ্কার করলেও আবার এখানে ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি করে ফেলা হয়। প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ তাদের।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, অফিসের বাইরে বের হলেই যাওয়ার পথে ময়লার গন্ধে নাক বন্ধ করে চলতে হয়, আমি এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের (ডিডিএলজি) সঙ্গে কথা বলেছি। খুব দ্রুত যেন এই জায়গা থেকে ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিন সরিয়ে অন্য কোথাও স্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আকতার বলেন, আমি ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে এখনই লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি আর ভাঙা ডাস্টবিন আগামী কালকের মধ্যে মেরামত করে দেবো। আশা করছি খুব শিগগিরই ওখানে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কারাবন্দি

Update Time : ০৫:৩১:০১ pm, Wednesday, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
১১৭

চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
১০/১২/২৫ ইং বুধবার

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের অদূরে ভিমরুল্লাহ নামক স্থানে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার।

প্রতিদিন কারাবন্দিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয়-স্বজন ও কারারক্ষীদের প্রবেশ করতে হয় নাক চেপে। কারণ জেলা কারাগারের সামনে প্রধান ফটকের পাশেই রয়েছে পৌরসভার ডাস্টবিন।

এই ডাস্টবিন উপচেপড়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়। যেখান থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। রেস্তোরাঁর পচা ভাত-তরকারি, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই ফেলা হয় এখানে।

এতে মশা-মাছির উপদ্রবসহ দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে কারারক্ষী ও কারাবন্দি-সহ আশপাশের বাসিন্দারা এবং পথচারি। নিজেদের এমন দূর্গন্ধময় পরিবেশ ও ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেল সুপার মোঃ আসাদুর রহমান।

সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনা- চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের ভিমরুল্লাহ গ্ৰামে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনেই সড়ক ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা এনে স্তূপ করে রাখা হয়।

দিন যত যাচ্ছে রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড় ততই বড় হচ্ছে। এ এলাকার বাসিন্দাদের নষ্ট হওয়া শাকসবজি, হোটেলের পচা-বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং বাসাবাড়ির ময়লাসহ সব ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে।

ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে গেটের পাশে বসে থেকে ডিউটি করা কঠিন হয়ে পড়ে কারারক্ষীদের জন্য। পাশাপাশি নাক চেপে পার হচ্ছে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরাও।

আব্দুল্লাহ হক নামে একজন পথচারী বলেন, সামনেই জেলা কারাগার অথচ এখানে ময়লা ফেলে রাখছে। জেলা কারাগার লেখা নির্দেশিকা বোর্ডের পাশেও ময়লার স্তূপ দেখা যায়। কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই।

এখান দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না।“ পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। নিরাপদ ও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা উচিত।

কারাবন্দীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা রিপন আলী বলেন, “এই ময়লার কারণে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই দূষণ আমাদের সকলের জন্য ক্ষতিকর। সবারই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।”

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার এই ময়লার মাঝে পরিষ্কার করলেও আবার এখানে ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি করে ফেলা হয়। প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ তাদের।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, অফিসের বাইরে বের হলেই যাওয়ার পথে ময়লার গন্ধে নাক বন্ধ করে চলতে হয়, আমি এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের (ডিডিএলজি) সঙ্গে কথা বলেছি। খুব দ্রুত যেন এই জায়গা থেকে ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিন সরিয়ে অন্য কোথাও স্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আকতার বলেন, আমি ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে এখনই লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি আর ভাঙা ডাস্টবিন আগামী কালকের মধ্যে মেরামত করে দেবো। আশা করছি খুব শিগগিরই ওখানে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসবে।