Rowmari - Kurigram 9:18 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত প্রার্থী, স্বতন্ত্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত রুমিন ফারহানার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪১:৫৩ pm, Tuesday, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 43 Time View
৭৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনে জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এই আসন থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এতে করে এই আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও দলটির প্রভাবশালী এক নেত্রীর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা জোরালো হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন,
‘আমি যা বলি, আমি তা–ই করি; এইটা ভালো হইলে, ভালোমন্দ হইলে আমার কিছু করার নাই। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা–ই হোক, নির্বাচন করব আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই।’
তার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়—দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামতে পারেন।
এদিকে বিএনপি ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যে হওয়া নির্বাচনি সমঝোতা অনুযায়ী, যেসব আসনে জমিয়ত প্রার্থী দেবে সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না এবং বিএনপির আসনগুলোতেও জমিয়ত প্রার্থী দেবে না। এই সমঝোতার আওতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মোট চারটি আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি।
ছাড়প্রাপ্ত আসনগুলো হলো—
নিলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী,
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী,
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ): মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। কারণ, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যেখানে জোটগত নির্বাচনে প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত-বিএনপি সমঝোতার প্রার্থী ও বিএনপির প্রভাবশালী এক নেত্রীর স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা এই আসনকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত প্রার্থী, স্বতন্ত্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত রুমিন ফারহানার

Update Time : ০৩:৪১:৫৩ pm, Tuesday, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
৭৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনে জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এই আসন থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এতে করে এই আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও দলটির প্রভাবশালী এক নেত্রীর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা জোরালো হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন,
‘আমি যা বলি, আমি তা–ই করি; এইটা ভালো হইলে, ভালোমন্দ হইলে আমার কিছু করার নাই। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা–ই হোক, নির্বাচন করব আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই।’
তার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়—দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামতে পারেন।
এদিকে বিএনপি ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যে হওয়া নির্বাচনি সমঝোতা অনুযায়ী, যেসব আসনে জমিয়ত প্রার্থী দেবে সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না এবং বিএনপির আসনগুলোতেও জমিয়ত প্রার্থী দেবে না। এই সমঝোতার আওতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মোট চারটি আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি।
ছাড়প্রাপ্ত আসনগুলো হলো—
নিলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী,
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী,
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ): মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। কারণ, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যেখানে জোটগত নির্বাচনে প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত-বিএনপি সমঝোতার প্রার্থী ও বিএনপির প্রভাবশালী এক নেত্রীর স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা এই আসনকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।