Rowmari - Kurigram 9:15 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভিন্ন দলে স্বামী-স্ত্রী: ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক আদর্শ, নির্বাচনে ব্যতিক্রমী লড়াই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০০:০২ pm, Saturday, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 38 Time View
৭২

নতুন কলম ডেস্ক রৌমারী,( কুড়িগ্রাম):
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী–রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সংসদ সদস্য পদে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই প্রার্থী হয়েছেন, তবে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এমন ঘটনা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম ফজলুল হক মন্ডল। তিনি রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তার রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমর্থনভিত্তি।
অন্যদিকে তার স্ত্রী মোছাঃ শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও তিনি নারী ভোটারদের মধ্যে একটি আলাদা অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্থানীয় উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিন্ন দল, ভিন্ন আদর্শ—এক পরিবারে দুই রাজনীতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় অবস্থানের ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের থেকে ভিন্ন। ঘরোয়া সম্পর্ক অটুট থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নীতিগত ও কর্মসূচিভিত্তিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকার কৌশল নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী।
ভোটারদের কৌতূহল, বিভক্ত মতামত
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, একই পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে কি না।
একজন স্থানীয় প্রবীণ ভোটার বলেন, “এটা আমাদের এলাকার জন্য একেবারেই নতুন ঘটনা। আমরা আগে কখনো এমন নির্বাচন দেখিনি। কে যোগ্য, সেটাই বিবেচনা করে ভোট দেব।”
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় উভয় প্রার্থীর সামাজিক পরিচিতি ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তারা আরও মনে করছেন, এই আসনের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বামী-স্ত্রীর এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নজর সবার কুড়িগ্রাম-৪ আসনে
সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসন এখন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতীক হিসেবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তারই এক বাস্তব উদাহরণ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভিন্ন দলে স্বামী-স্ত্রী: ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক আদর্শ, নির্বাচনে ব্যতিক্রমী লড়াই

Update Time : ০৩:০০:০২ pm, Saturday, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
৭২

নতুন কলম ডেস্ক রৌমারী,( কুড়িগ্রাম):
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী–রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সংসদ সদস্য পদে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই প্রার্থী হয়েছেন, তবে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এমন ঘটনা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম ফজলুল হক মন্ডল। তিনি রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তার রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমর্থনভিত্তি।
অন্যদিকে তার স্ত্রী মোছাঃ শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও তিনি নারী ভোটারদের মধ্যে একটি আলাদা অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্থানীয় উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিন্ন দল, ভিন্ন আদর্শ—এক পরিবারে দুই রাজনীতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় অবস্থানের ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের থেকে ভিন্ন। ঘরোয়া সম্পর্ক অটুট থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নীতিগত ও কর্মসূচিভিত্তিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকার কৌশল নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী।
ভোটারদের কৌতূহল, বিভক্ত মতামত
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, একই পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে কি না।
একজন স্থানীয় প্রবীণ ভোটার বলেন, “এটা আমাদের এলাকার জন্য একেবারেই নতুন ঘটনা। আমরা আগে কখনো এমন নির্বাচন দেখিনি। কে যোগ্য, সেটাই বিবেচনা করে ভোট দেব।”
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় উভয় প্রার্থীর সামাজিক পরিচিতি ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তারা আরও মনে করছেন, এই আসনের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বামী-স্ত্রীর এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নজর সবার কুড়িগ্রাম-৪ আসনে
সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসন এখন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতীক হিসেবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তারই এক বাস্তব উদাহরণ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।