রৌমারী - কুড়িগ্রাম ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4
সর্বশেষ সংবাদ :
ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণ ও উৎসাহ বোনাস বিতরণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, শোকের ছায়া রৌমারীতে ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬  প্রতিযোগিতায় বক্তৃতায় জেলায় প্রথম স্থান আফিয়া তাসনিম রৌমারীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসা ও এতিম শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান Protest Rally Held in Pirojpur Against the Killing of Swechchhasebak Dal Leader Musabbir স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ Alhaj Mostafizur Rahman Mostak Emphasizes Development and Public Welfare in Kurigram-4

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভিন্ন দলে স্বামী-স্ত্রী: ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক আদর্শ, নির্বাচনে ব্যতিক্রমী লড়াই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ Time View
২৩

নতুন কলম ডেস্ক রৌমারী,( কুড়িগ্রাম):
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী–রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সংসদ সদস্য পদে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই প্রার্থী হয়েছেন, তবে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এমন ঘটনা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম ফজলুল হক মন্ডল। তিনি রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তার রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমর্থনভিত্তি।
অন্যদিকে তার স্ত্রী মোছাঃ শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও তিনি নারী ভোটারদের মধ্যে একটি আলাদা অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্থানীয় উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিন্ন দল, ভিন্ন আদর্শ—এক পরিবারে দুই রাজনীতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় অবস্থানের ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের থেকে ভিন্ন। ঘরোয়া সম্পর্ক অটুট থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নীতিগত ও কর্মসূচিভিত্তিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকার কৌশল নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী।
ভোটারদের কৌতূহল, বিভক্ত মতামত
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, একই পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে কি না।
একজন স্থানীয় প্রবীণ ভোটার বলেন, “এটা আমাদের এলাকার জন্য একেবারেই নতুন ঘটনা। আমরা আগে কখনো এমন নির্বাচন দেখিনি। কে যোগ্য, সেটাই বিবেচনা করে ভোট দেব।”
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় উভয় প্রার্থীর সামাজিক পরিচিতি ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তারা আরও মনে করছেন, এই আসনের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বামী-স্ত্রীর এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নজর সবার কুড়িগ্রাম-৪ আসনে
সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসন এখন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতীক হিসেবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তারই এক বাস্তব উদাহরণ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ভারটেক্স মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভিন্ন দলে স্বামী-স্ত্রী: ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক আদর্শ, নির্বাচনে ব্যতিক্রমী লড়াই

Update Time : ০৩:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
২৩

নতুন কলম ডেস্ক রৌমারী,( কুড়িগ্রাম):
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী–রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সংসদ সদস্য পদে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই প্রার্থী হয়েছেন, তবে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এমন ঘটনা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম ফজলুল হক মন্ডল। তিনি রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তার রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমর্থনভিত্তি।
অন্যদিকে তার স্ত্রী মোছাঃ শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও তিনি নারী ভোটারদের মধ্যে একটি আলাদা অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্থানীয় উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিন্ন দল, ভিন্ন আদর্শ—এক পরিবারে দুই রাজনীতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় অবস্থানের ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের থেকে ভিন্ন। ঘরোয়া সম্পর্ক অটুট থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নীতিগত ও কর্মসূচিভিত্তিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকার কৌশল নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী।
ভোটারদের কৌতূহল, বিভক্ত মতামত
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, একই পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে কি না।
একজন স্থানীয় প্রবীণ ভোটার বলেন, “এটা আমাদের এলাকার জন্য একেবারেই নতুন ঘটনা। আমরা আগে কখনো এমন নির্বাচন দেখিনি। কে যোগ্য, সেটাই বিবেচনা করে ভোট দেব।”
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় উভয় প্রার্থীর সামাজিক পরিচিতি ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তারা আরও মনে করছেন, এই আসনের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বামী-স্ত্রীর এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নজর সবার কুড়িগ্রাম-৪ আসনে
সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসন এখন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতীক হিসেবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তারই এক বাস্তব উদাহরণ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।