Rowmari - Kurigram 9:17 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

ইন্দুরকানীতে মাতৃ সেবা ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়েদের ভয় দেখিয়ে চলছে সিজারিন অপারেশনের বাণিজ্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৫:১৬ pm, Monday, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 11 Time View
২৭

“নিজেকে সহকারী ডাক্তার বলে চালাচ্ছেন ক্লিনিক ব্যবসা”

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে গর্ভবতী মায়েদের ভয় দেখিয়ে ও নিজেকে সহকারী ডাক্তার ১ দিয়ে সেবার নামে চালাচ্ছে রমরমা ক্লিনিক ব্যবসা। মূলত গর্ভবতী মায়েদেরকে আতংকিত করে নানান ভয় দেখিয়ে অযথা সিজারিন করানোই এই ভুয়া ডাক্তারের প্রধান টার্গেট।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত মাতৃ সেবা ক্লিনিকের নামে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ এলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে মুন্নি আক্তার আট মাসের গর্ভবতী তাই তার পরিবার চেকআপের জন্য মুন্নি আক্তারকে নিয়ে আসেন ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু সিনিয়র নার্স শিবানী তাকে হাসপাতালে চেকআপ না করে পাশের মাতৃসেবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে সহকারী ডাক্তার পরিচয়ে ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রোগীকে নানান ভাবে ভয় দেখিয়ে রুগীর স্বজনদেরকে জানান, রোগীকে এখনই সিজারিন অপারেশন করতে হবে, নইলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এমনকি রোগীর জন্য রক্তদাতাকেও রেডি করে রাখতে বলেন।

এসময় রোগীর পরিবারের সদস্যরা সংশয়ে পড়ে যান। পরে রোগীর ভাই লিমন এসে তাদেরকে জানান, অন্যান্য ডাক্তাররা বলেছেন ডেলিভারির এখনও সময় আছে। কিসের অপারেশন করাবো এই বলে তিনি বোনকে নিয়ে দ্রুত পিরোজপুর কেয়ার ফাস্ট ক্লিনিকে ডাক্তার আব্দুল মতিনের কাছে যান। তবে সেখানে অপারেশন না করায় দীর্ঘসময় বসিয়ে রেখে ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীকে দেখতে অস্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ডাক্তার মতিনই নিয়মিত এই মাতৃসেবা ক্লিনিকে এসে একাই সিজারিন করান।

একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রোগীর পরিবার ওই রাতেই পিরোজপুর মুসলিম এইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং প্রসবের জন্য আরও প্রায় এক মাস সময় বাকি রয়েছে। এখন সিজারিন অপারেশন করালে শিশু ও মায়ের ঝুঁকি রয়েছে। পরেরদিন ২২ আগস্ট শুক্রবার জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফারজানা রহমান কে দেখালে তিনি একই কথা জানান।

রোগীর ভাই লিমন বলেন, “ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে মাতৃ সেবা নামে ক্লিনিক খুলে সেবার নামে অযথা সিজারের ব্যবসা হচ্ছে। আমরা সচেতন ছিলাম বলে বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এখান থেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।”

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, মাতৃসেবা ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন এবং রোগী ভর্তি করান। এরপর ডাক্তার আব্দুল মতিনকে ডেকে এনে সিজারিন অপারেশন সহ নানান রোগের অপারেশন করান। এছাড়া আলাদা ভাবে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ক্লিনিকে কোনো এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। এমনকি অতীতে এই ক্লিনিকে অপারেশনের পর একাধিক রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রভাবশালী নেতাদের তদবিরে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় , উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু নার্স ও স্টাফও এই ক্লিনিকের দালালি করে থাকেন। তারা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেন এবং প্রতিটি সিজারিন অপারেশনের বিপরীতে তাদেরকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাতৃ সেবা ক্লিনিকের মালিক রাজীব রায় বলেন, “আমি শুধু চেকআপ করেছি। পরে রোগীর স্বজনরা তাকে পিরোজপুরে নিয়ে গেছেন। আমি রোগীকে অপারেশন করার জন্য বলিনি।”

ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “আমার হাসপাতালের কোনো স্টাফ যদি কোন ক্লিনিকের দালালি করে তবে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ক্লিনিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব সিভিল সার্জনের। প্রয়োজন হলে আমি তাঁকে অবহিত করব।”

অন্যদিকে, ডাক্তার আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা চাই ক্লিনিকগুলো নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম চালাক। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, প্রয়োজনে সেইসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইন্দুরকানীতে মাতৃ সেবা ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়েদের ভয় দেখিয়ে চলছে সিজারিন অপারেশনের বাণিজ্য

Update Time : ০৪:১৫:১৬ pm, Monday, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
২৭

“নিজেকে সহকারী ডাক্তার বলে চালাচ্ছেন ক্লিনিক ব্যবসা”

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে গর্ভবতী মায়েদের ভয় দেখিয়ে ও নিজেকে সহকারী ডাক্তার ১ দিয়ে সেবার নামে চালাচ্ছে রমরমা ক্লিনিক ব্যবসা। মূলত গর্ভবতী মায়েদেরকে আতংকিত করে নানান ভয় দেখিয়ে অযথা সিজারিন করানোই এই ভুয়া ডাক্তারের প্রধান টার্গেট।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত মাতৃ সেবা ক্লিনিকের নামে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ এলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে মুন্নি আক্তার আট মাসের গর্ভবতী তাই তার পরিবার চেকআপের জন্য মুন্নি আক্তারকে নিয়ে আসেন ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু সিনিয়র নার্স শিবানী তাকে হাসপাতালে চেকআপ না করে পাশের মাতৃসেবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে সহকারী ডাক্তার পরিচয়ে ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রোগীকে নানান ভাবে ভয় দেখিয়ে রুগীর স্বজনদেরকে জানান, রোগীকে এখনই সিজারিন অপারেশন করতে হবে, নইলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এমনকি রোগীর জন্য রক্তদাতাকেও রেডি করে রাখতে বলেন।

এসময় রোগীর পরিবারের সদস্যরা সংশয়ে পড়ে যান। পরে রোগীর ভাই লিমন এসে তাদেরকে জানান, অন্যান্য ডাক্তাররা বলেছেন ডেলিভারির এখনও সময় আছে। কিসের অপারেশন করাবো এই বলে তিনি বোনকে নিয়ে দ্রুত পিরোজপুর কেয়ার ফাস্ট ক্লিনিকে ডাক্তার আব্দুল মতিনের কাছে যান। তবে সেখানে অপারেশন না করায় দীর্ঘসময় বসিয়ে রেখে ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীকে দেখতে অস্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ডাক্তার মতিনই নিয়মিত এই মাতৃসেবা ক্লিনিকে এসে একাই সিজারিন করান।

একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রোগীর পরিবার ওই রাতেই পিরোজপুর মুসলিম এইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং প্রসবের জন্য আরও প্রায় এক মাস সময় বাকি রয়েছে। এখন সিজারিন অপারেশন করালে শিশু ও মায়ের ঝুঁকি রয়েছে। পরেরদিন ২২ আগস্ট শুক্রবার জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফারজানা রহমান কে দেখালে তিনি একই কথা জানান।

রোগীর ভাই লিমন বলেন, “ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে মাতৃ সেবা নামে ক্লিনিক খুলে সেবার নামে অযথা সিজারের ব্যবসা হচ্ছে। আমরা সচেতন ছিলাম বলে বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এখান থেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।”

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, মাতৃসেবা ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন এবং রোগী ভর্তি করান। এরপর ডাক্তার আব্দুল মতিনকে ডেকে এনে সিজারিন অপারেশন সহ নানান রোগের অপারেশন করান। এছাড়া আলাদা ভাবে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ক্লিনিকে কোনো এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। এমনকি অতীতে এই ক্লিনিকে অপারেশনের পর একাধিক রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রভাবশালী নেতাদের তদবিরে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় , উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু নার্স ও স্টাফও এই ক্লিনিকের দালালি করে থাকেন। তারা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেন এবং প্রতিটি সিজারিন অপারেশনের বিপরীতে তাদেরকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাতৃ সেবা ক্লিনিকের মালিক রাজীব রায় বলেন, “আমি শুধু চেকআপ করেছি। পরে রোগীর স্বজনরা তাকে পিরোজপুরে নিয়ে গেছেন। আমি রোগীকে অপারেশন করার জন্য বলিনি।”

ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “আমার হাসপাতালের কোনো স্টাফ যদি কোন ক্লিনিকের দালালি করে তবে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ক্লিনিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব সিভিল সার্জনের। প্রয়োজন হলে আমি তাঁকে অবহিত করব।”

অন্যদিকে, ডাক্তার আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা চাই ক্লিনিকগুলো নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম চালাক। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, প্রয়োজনে সেইসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।