Rowmari - Kurigram 9:15 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৪:৩৭ am, Thursday, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 10 Time View
২৬

মোঃ মিনারুল ইসলাম

চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

 

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আলুকদিয়া বাজারে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তার চরিত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তিনি বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের, বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের, তার অফিসকক্ষে ডেকে অকারণে কথা বলেন এবং বাজে ইঙ্গিত দেন।

এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে তাদের জোরপূর্বক কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। পূর্বে প্রধান শিক্ষক স্থানীয় একজন কোচিং শিক্ষকের কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন। বর্তমানে তিনি নিজেই বিদ্যালয়ে কোচিং করান এবং প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে ফি নেন।

আন্দোলনকারীরা আরও জানায়, প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। সম্প্রতি আইডি কার্ড তৈরির নামে ১৫০ টাকা সংগ্রহ করা হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে আসে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান বলেন, ছাত্রীরা যেসব অভিযোগ করেছে তার কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি মনে করেন, মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাস করতে চায়, কিন্তু তিনি ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চালুর পক্ষে। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ এখনো বিদ্যমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল।

Update Time : ০৩:৪৪:৩৭ am, Thursday, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
২৬

মোঃ মিনারুল ইসলাম

চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

 

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আলুকদিয়া বাজারে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তার চরিত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তিনি বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের, বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের, তার অফিসকক্ষে ডেকে অকারণে কথা বলেন এবং বাজে ইঙ্গিত দেন।

এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে তাদের জোরপূর্বক কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। পূর্বে প্রধান শিক্ষক স্থানীয় একজন কোচিং শিক্ষকের কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন। বর্তমানে তিনি নিজেই বিদ্যালয়ে কোচিং করান এবং প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে ফি নেন।

আন্দোলনকারীরা আরও জানায়, প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। সম্প্রতি আইডি কার্ড তৈরির নামে ১৫০ টাকা সংগ্রহ করা হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে আসে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান বলেন, ছাত্রীরা যেসব অভিযোগ করেছে তার কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি মনে করেন, মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাস করতে চায়, কিন্তু তিনি ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চালুর পক্ষে। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ এখনো বিদ্যমান।