Rowmari - Kurigram 9:17 am, Tuesday, 3 March 2026
Notice:
Welcome To Our Website...www.notunkalom.com 👉এতদ্বারা দৈনিক নতুন কলমের সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে বাংলা মাধ্যম থেকে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরের ফলে পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে “Daily Notun Kalom” করা হয়েছে। আজ থেকে পত্রিকাটির সকল সংবাদ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হবে। 👉 This is to inform our journalists, readers, and well-wishers that Dainik Notun Kolom has transitioned from Bangla to English and will now be published as “Daily Notun Kalom.” All news will be published in English from today onward.👉

রৌমারী-রাজিবপুরে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভুতুড়ে বিল: ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১১:১৩ am, Sunday, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • 38 Time View
৮৬

মাহবুবুল আলম ফারুকী, উপজেলা প্রতিনিধি রৌমারী কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রাম জেলার ব্রম্মপুত্র নদ দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর। নদীর ভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও অবহেলায় জর্জরিত এই অঞ্চল যেন এক “অবহেলিত জাতির” জীবন্ত ইতিহাস। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার এখানকার মানুষ।

এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম— বিদ্যুৎ সংকট। প্রায় প্রতিদিনই ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অথচ মাস শেষে তাদের হাতে এসে পৌঁছায় ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, যা অনেক সময় মিটারে প্রদর্শিত ইউনিটের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ ইউনিট বেশি।

রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটি জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিস এর আওতায় পরিচালিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল আসছে নিয়মিত। তদুপরি, মাঠ পর্যায়ে রিডিং না নিয়ে অফিসে বসেই বিল তৈরি করা হচ্ছে বলে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন।

রৌমারীর চর বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক নূর ইসলাম বলেন,

“মিটারে ৯০ ইউনিট দেখাচ্ছে, অথচ বিল এসেছে ২৪০ ইউনিটের! এমন হয় কীভাবে? অফিসে গেলে বলে মেশিনে ভুল। কিন্তু সেই ভুলের টাকা দিতে হয় আমাদেরই।”

এমন অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে রৌমারী উপজেলা চত্বর থেকে রৌমারী জোনাল অফিস ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেন সর্বস্তরের জনগণ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সকাল থেকেই পুরো অফিস প্রাঙ্গণ পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘিরে রাখা হয় যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

রৌমারীর স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক ও সাধারন জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়

“এলাকায় প্রায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল আসে অস্বাভাবিক। এই অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

 

অন্যদিকে, রৌমারী জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“আমরা অভিযোগগুলো জেনেছি। বিলের হিসাব সফটওয়্যারের মাধ্যমে হয়, মাঝে মাঝে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গড়পড়তা বিল হিসাব হয়। তবে সব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই প্রতিবেদন লেখার সময় (বিকাল ৪টা পর্যন্ত) রৌমারী বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।

স্থানীয়রা বলেন,

“আমরা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখি, কিন্তু এখনো মৌলিক সেবা বিদ্যুৎও পাচ্ছি না নিয়মিতভাবে। এটা আর সহ্য হচ্ছে না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রৌমারী-রাজিবপুরে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভুতুড়ে বিল: ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ

Update Time : ১১:১১:১৩ am, Sunday, ৫ অক্টোবর ২০২৫
৮৬

মাহবুবুল আলম ফারুকী, উপজেলা প্রতিনিধি রৌমারী কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রাম জেলার ব্রম্মপুত্র নদ দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর। নদীর ভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও অবহেলায় জর্জরিত এই অঞ্চল যেন এক “অবহেলিত জাতির” জীবন্ত ইতিহাস। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার এখানকার মানুষ।

এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম— বিদ্যুৎ সংকট। প্রায় প্রতিদিনই ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অথচ মাস শেষে তাদের হাতে এসে পৌঁছায় ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, যা অনেক সময় মিটারে প্রদর্শিত ইউনিটের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ ইউনিট বেশি।

রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটি জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিস এর আওতায় পরিচালিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল আসছে নিয়মিত। তদুপরি, মাঠ পর্যায়ে রিডিং না নিয়ে অফিসে বসেই বিল তৈরি করা হচ্ছে বলে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন।

রৌমারীর চর বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক নূর ইসলাম বলেন,

“মিটারে ৯০ ইউনিট দেখাচ্ছে, অথচ বিল এসেছে ২৪০ ইউনিটের! এমন হয় কীভাবে? অফিসে গেলে বলে মেশিনে ভুল। কিন্তু সেই ভুলের টাকা দিতে হয় আমাদেরই।”

এমন অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে রৌমারী উপজেলা চত্বর থেকে রৌমারী জোনাল অফিস ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেন সর্বস্তরের জনগণ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সকাল থেকেই পুরো অফিস প্রাঙ্গণ পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘিরে রাখা হয় যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

রৌমারীর স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক ও সাধারন জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়

“এলাকায় প্রায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল আসে অস্বাভাবিক। এই অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

 

অন্যদিকে, রৌমারী জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“আমরা অভিযোগগুলো জেনেছি। বিলের হিসাব সফটওয়্যারের মাধ্যমে হয়, মাঝে মাঝে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গড়পড়তা বিল হিসাব হয়। তবে সব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই প্রতিবেদন লেখার সময় (বিকাল ৪টা পর্যন্ত) রৌমারী বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।

স্থানীয়রা বলেন,

“আমরা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখি, কিন্তু এখনো মৌলিক সেবা বিদ্যুৎও পাচ্ছি না নিয়মিতভাবে। এটা আর সহ্য হচ্ছে না।”