মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কটি নতুনভাবে সংস্কারের পরও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আড়াই বছরের মধ্যে অন্তত ১০ বারের বেশি জোড়াতালি দেওয়া হলেও পরিস্থিতি শুধুই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়নের আড়ালে সড়ক নির্মাণে হয়েছে ব্যাপক লুটপাট, আর সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রমতে, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে দামুড়হুদার ডুগডুগি বাজার পর্যন্ত ৯.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: জহিরুল লিমিটেড (যদিও স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়ন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আরফিন আলম রঞ্জু)।
কাজ সমাপ্তি: ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কের বেহাল দশা জনগণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারের পরেও পুরো সড়কটি চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত।
দর্শনা, মুজিবনগর, জীবননগর-কোর্টচাঁদপুর-কালিগঞ্জ সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এই পথে প্রতিক্ষণই যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।
অথচ প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বুকজুড়ে তৈরি হয়েছে এই দুরবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কটির নিয়মিত ব্যবহারকারী দর্শনা এলাকার আওয়াল হাসান বলেন, “নতুন সংস্কারের পর মাত্র ১৫ দিন সড়কটি ভালো ছিল। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হয়।
এই খানাখন্দ মেরামত করতে অন্তত ১০ বার জোড়াতালি ও সংস্কার করা হয়েছে। তবুও কোনো লাভ হয়নি।”
উজিরপুর এলাকার বাসিন্দা রাজিবুল হাসান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “এই সড়কটি উন্নয়নের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। কোটি কোটি টাকার সড়ক হলেও ঠিকমতো চলাচল করা যায়নি।
প্রকল্পের অধিকাংশ টাকা ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা মিলে পকেটে ভরেছেন।”
ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দীন জানান, সড়ক উঁচুনিচু ও খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বারবার সংস্কার হওয়ার পরও সরকারের খরচ বেড়েই চলেছে। আর দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।”
বারবার সংস্কারের পরও সড়কের অবস্থার অবনতির কারণ জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুজাত কাজী এক প্রকার স্বীকারোক্তি দেন।
তিনি জানান,
“এই সড়কটি সংস্কার না করে পুনর্নির্মাণ করা উচিত ছিল। শুধুমাত্র কার্পেটিং করার ফলে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবু চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে উঁচু-নিচু রাস্তা ও খানাখন্দ সমতল করা হচ্ছে। এজন্য নিয়মিতভাবে সংস্কার কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, সড়কটি পুরোপুরি ঠিক করতে হলে বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
৮ কোটি ৬২ লক্ষাধিক টাকার প্রকল্প শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের এমন করুণ দশায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান এবং সওজ বিভাগের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী মহল অবিলম্বে সড়কের পুনর্নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকায় সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় রোধে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান কামনা করছেন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ।