চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
০৪/১২/২৫ ইং বৃহস্পতিবার
চুয়াডাঙ্গার জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা মোড়ে অবস্থিত ‘আলিম ট্রেডার্স’-এর মালিক আব্দুল আলিমকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিপুল অংকের অর্থ জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ (৪ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ভাউচার সংরক্ষণ না করার অভিযোগে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে সার ব্যবসায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ০১ টা ২৫ মিনিটের দিকে নতিপোতা মোড়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম নতিপোতা গ্রামের মোকিম মন্ডলের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় দেখা যায় যে, আব্দুল আলিম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সার ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো প্রকার ভাউচার বা ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ করেননি।
একইসাথে, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে কী পরিমাণ সার ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদানেও তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যর্থতার মতো গুরুতর অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারা মোতাবেক তাঁকে এই জরিমানা করে।
এই ধারায় ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ কাগজপত্র সংরক্ষণ না করার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) কে এইচ তাসফিকুর রহমান।
তিনি তাৎক্ষণিক রায়ের মাধ্যমে জরিমানা ধার্য করেন।
অভিযানকালে প্রসিকিউটরের (মামলার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার।
কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকায় সারের মজুত, সরবরাহ এবং কৃষক পর্যায়ে এর প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া সম্ভব হয়।
এছাড়াও, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে। তাঁরা জানিয়েছেন, সার বিক্রি ও বিতরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।
বিশেষ করে, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির প্রবণতা রোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নতিপোতার এই ঘটনাটি স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
তাঁরা আশা করছেন, এর ফলে ব্যবসায়ীরা আইন মেনে লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড বা ভাউচার সংরক্ষণ করতে এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে আরও বেশি সচেষ্ট হবেন।