দৈনিক নতুন কলম নিউজ ডেস্কঃ
কুড়িগ্রামের কাজাইকাটা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে পবিত্র তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৪ ডিসেম্বর, রোজ রবিবার দিনব্যাপী এ মাহফিলটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলকে ঘিরে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। এতে পুরো কাজাইকাটা এলাকা এক উৎসবমুখর ধর্মীয় পরিবেশে রূপ নেয়।
ভিডিও দেখতে https://youtu.be/TizplKjsCLE?si=W8j09gcbxeC50biE

মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করা হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার দায়িত্বশীল আলেমগণ। আয়োজকরা জানান, পবিত্র কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এই মাহফিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

মাহফিলের প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন ভারত থেকে সফররত প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা হাসানুজ্জামান আজিজী (কলিকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)। তিনি পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের তাফসির তুলে ধরে বলেন, কোরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের জন্য নাজিল হয়েছে। তিনি সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁর বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহ নানামুখী সংকটে নিপতিত। এসব সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। তাঁর প্রাঞ্জল ভাষা ও হৃদয়স্পর্শী উপস্থাপনা উপস্থিত মুসল্লিদের গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

মাহফিলের দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসউদুর রহমান সিদ্দিকী, পরিচালক, হযরত সুমাইয়া (রা.) মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা, কুড়িগ্রাম। তিনি কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ঈমান-আকিদা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সমাজ সংস্কারে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবার থেকেই ইসলামী শিক্ষার চর্চা শুরু করতে হবে। নারী শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসাভিত্তিক উদ্যোগকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা তাঁদের আলোচনায় তরুণ সমাজকে কোরআনমুখী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং মোবাইল আসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচতে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহযোগিতা করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও রাখা হয়।

মাহফিলের শেষপর্যায়ে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আগত অতিথি ও মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে কোরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।