চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
২২/১২/২৫ ইং মঙ্গলবার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের সারা জীবনের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

গত সোমবার রাতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ) রাত আনুমানিক ০৯টা ৪০ মিনিটের দিকে রঘুনাথপুর গ্রামের ০৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ নজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মোতালেব হোসেনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।

শীতের রাতে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, আগুনের তীব্রতায় ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

আগুনের খবর পেয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে আসেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। গ্রামবাসীর তৎপরতায় আগুন আশপাশের বাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

অগ্নিকাণ্ডে মোতালেব হোসেনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, মজুতকৃত খাদ্যশস্য, পরিধেয় বস্ত্র ও লেপ-তোশক।

তবে সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হওয়ার মতো বিষয় হলো, পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনের অমূল্য সম্পদ একাডেমিক সার্টিফিকেটসমূহ এবং জমি-জমার প্রয়োজনীয় মূল দলিলপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এছাড়া ঘরে থাকা নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবারটি এখন আক্ষরিক অর্থেই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

ঘটনা শুনে আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ) সকাল ১০ টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত মোতালেবের বাড়িতে সশরীরে হাজির হন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে তিনি মোতালেবের হাতে তুলে দেন:
শীতবস্ত্র (কম্বল), শুকনো খাবার,
নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী (চাল, ডাল, তেল)

ইউএনও মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল পরিবারটিকে আরও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ইউএনও অফিস বরাবর লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন, যাতে সরকারি তহবিল থেকে তাদের আরও বড় ধরনের পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা যায়।

প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে এবং ব্যক্তিগত সহমর্মিতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোতালেব হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। তারা এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইউএনও এবং গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও দোয়া কামনা করেন।